মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান কাটা ধীরে ধীরে শুরু হবে। কোথাও আগাম জাতের ধান ইতোমধ্যে পাকতে শুরু করেছে, আবার কোথাও জমি এখনো পুরোপুরি সোনালি হওয়ার অপেক্ষায় আছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলার বেশিরভাগ এলাকায় ধান কাটার ব্যস্ততা আরও বাড়বে। তবে এই সময়ের আবহাওয়া পুরোপুরি স্থির থাকবে না। কখনো রোদ, কখনো মেঘ, আবার বিকেলের দিকে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা—সব মিলিয়ে কৃষকদের আবহাওয়ার দিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে।

১০ মে: ভোরে আর্দ্রতা বেশি থাকবে, বিকেলের দিকে বৃষ্টির ঝুঁকি বাড়বে

দিনের শুরুতে তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ২৪°C এর আশেপাশে। ভোর ও সকালে বাতাসে আদ্রতা ৯০% ছাড়িয়ে যেতে পারে, ফলে হালকা ভ্যাপসা অনুভূতি থাকবে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রোদ বাড়বে এবং দুপুর নাগাদ তাপমাত্রা ৩২°C পর্যন্ত উঠতে পারে।

বিকেলের দিকে আকাশে মেঘ জমার প্রবণতা বাড়বে। এদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে প্রায় ৫৫% থেকে ৬৫% পর্যন্ত। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে। যারা ধান কাটবেন, তারা বিকেলের আগেই কাজ গুছিয়ে ফেললে সুবিধা হবে।

১১ মে: মেঘের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে, গরম কমলেও আর্দ্রতা থাকবে বেশি

এদিন সকাল থেকেই আকাশে মেঘের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। তাপমাত্রা ৩০°C থেকে ৩১°C এর মধ্যে থাকবে, তবে আদ্রতা ৮৫% থেকে ৯৫% পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে। ফলে সরাসরি তাপমাত্রা কম থাকলেও ভ্যাপসা ভাব কম অনুভূত হবে না।

বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে প্রায় ৪৫% থেকে ৫০%। বিকেলের দিকে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। নিচু জমিতে কাটা ধান ফেলে রাখলে ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

১২ মে: দুপুরে রোদ বাড়বে, সন্ধ্যার দিকে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হতে পারে

১২ মে দিনের প্রথমভাগ তুলনামূলক উজ্জ্বল থাকতে পারে। সকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকবে, প্রায় ১৫% থেকে ২০%। তবে দুপুরের পর গরম দ্রুত বাড়বে এবং তাপমাত্রা ৩৩°C পর্যন্ত উঠতে পারে।

বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে কালো মেঘ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এদিন বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা ৬০% এর কাছাকাছি যেতে পারে। দমকা হাওয়া ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতেও উঠতে পারে।

১৩ মে: আবহাওয়া কিছুটা অস্থির থাকতে পারে

১৩ মে সারাদিনই আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা ৩০°C এর আশেপাশে থাকলেও বাতাস ভারী অনুভূত হবে। আদ্রতা ৮০% থেকে ৯০% এর মধ্যে থাকতে পারে।

এদিন দুপুরের পর কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৫০% থেকে ৬০% পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে ধান কাটার পাশাপাশি শুকানোর কাজেও কিছুটা সমস্যা তৈরি হতে পারে।

কৃষকদের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি জরুরি হবে

  • যেসব জমির ধান পুরোপুরি পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে নেওয়া ভালো হবে।
  • বিকেলের আগে ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করা নিরাপদ হবে।
  • আকাশ কালো হয়ে গেলে বা বাতাস হঠাৎ বেড়ে গেলে মাঠে কাজ কমিয়ে আনা উচিত হবে।
  • কাটা ধান খোলা জায়গায় বেশি সময় না রেখে ত্রিপল বা পলিথিনের ব্যবস্থা রাখা দরকার হবে।
  • বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে অবস্থান না করাই ভালো হবে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি

সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জে বোরো ধান কাটার মৌসুম এমন সময়ে এগোবে, যখন আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। সকাল কিছুটা শান্ত থাকলেও বিকেলের দিকে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই কৃষকদের জন্য আগামী কয়েক দিন হবে সময় বুঝে দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়।