২৪ জুলাই মানিকগঞ্জে দিনের শুরু থেকেই আকাশে মেঘের আধিক্য থাকবে এবং সকাল থেকে জেলার কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। দুপুরের পর বৃষ্টির বিস্তার বাড়বে। বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতের দিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রসহ বৃষ্টির সময় দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় বৃষ্টির বিরতিতে কিছুটা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
দিনের কোন সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি
২৪ জুলাই দিনের শুরু থেকেই আকাশে মেঘের আধিক্য থাকবে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া, ঘিওর, শিবালয়, হরিরামপুর, দৌলতপুর ও সিংগাইরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা ৪০–৬০ শতাংশ। এ সময় বেশির ভাগ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, তবে সব এলাকায় একসঙ্গে বৃষ্টি নাও হতে পারে।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়বে। এ সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬৫–৮০ শতাংশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য ভারী বর্ষণও হতে পারে।
বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময়টিই দিনের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ সময় হতে পারে। এই সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৮৫–৯৫ শতাংশ। জেলার অধিকাংশ এলাকায় এক বা একাধিক দফায় বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হলে নিচু স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬০–৭৫ শতাংশ। এ সময়ও বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, তবে বিকেলের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।
রাত ১১টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা ৩০–৫০ শতাংশ। জেলার কিছু এলাকায় হালকা বা মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, অন্য এলাকায় শুধু মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে।
যমুনা নদীর পানির অবস্থা
মানিকগঞ্জের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার পানি আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যমুনার পানি বাড়লে নদীর স্রোতও শক্তিশালী হয়। যেসব স্থানে আগে থেকেই ভাঙন রয়েছে, সেখানে নতুন করে মাটি ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পদ্মা নদীর বর্তমান প্রবণতা
হরিরামপুর উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীতেও পানি বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনে পদ্মার পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সামগ্রিক নদী পরিস্থিতিতে ইঙ্গিত মিলছে।
পদ্মার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর উচিত নদীর গতিবিধির দিকে সারাদিন নজর রাখা। বিশেষ করে টানা বৃষ্টির পর নদীর স্রোত আরও তীব্র হলে স্থানীয়ভাবে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কালীগঙ্গা নদীর অবস্থা
মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর ও সাটুরিয়া অঞ্চলের কালীগঙ্গা নদীতে স্থানীয় বৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলক দ্রুত দেখা যায়। ২৪ জুলাই জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হলে নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। নিম্নাঞ্চলের খাল ও বিলে পানি জমার প্রবণতাও বাড়তে পারে।
ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদীর পরিস্থিতি
সিংগাইর ও আশপাশের এলাকায় ধলেশ্বরী এবং ইছামতী নদীতে বড় ধরনের আকস্মিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও টানা বৃষ্টির কারণে পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাশয়গুলোতেও পানি বাড়বে। ফলে নিচু কৃষিজমিতে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা থাকবে। সর্বপরি মানিকগঞ্জের সব নদীতেই বর্ষার পানি বইতে শুরু করেছে।

কোন কোন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেশি
২৪ জুলাই সবচেয়ে বেশি নজর রাখতে হবে—
- শিবালয় উপজেলার যমুনা তীরবর্তী এলাকা।
- দৌলতপুর উপজেলার যমুনা সংলগ্ন চর ও নদীতীর।
- হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী ইউনিয়ন।
- আগে থেকে ভাঙন চলমান নদীতীরবর্তী বসতি ও কৃষিজমি।
টানা বৃষ্টি ও নদীর স্রোত একসঙ্গে বাড়লে এসব এলাকায় স্থানীয়ভাবে ভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। নতুন ফাটল, মাটি ধসে পড়া বা নদীর পাড়ে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
কৃষকদের জন্য পরামর্শ
ভারী বৃষ্টির কারণে জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকতে পারে। যেসব জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ চলছে, সেখানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। সবজি চাষিদেরও জমিতে দীর্ঘ সময় পানি আটকে না থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।
পুকুরে মাছ চাষিরা পাড়ের অবস্থা পরীক্ষা করবেন। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা থাকলে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।
চলাচলে সতর্কতা
বিকেল ও সন্ধ্যায় বৃষ্টির সময় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক এবং বাজার এলাকায় যানবাহনের গতি কমে যেতে পারে। বজ্রপাতের সময় নদীতে নৌকা চলাচল, মাছ ধরা এবং খোলা মাঠে অবস্থান এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
এক নজরে ২৪ জুলাই মানিকগঞ্জ
- আকাশ: অধিকাংশ সময় মেঘলা।
- বৃষ্টি: দুপুরের পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
- সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৩০–৩১° সেলসিয়াস।
- সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২৫–২৬° সেলসিয়াস।
- যমুনা: পানি বৃদ্ধির প্রবণতা, শিবালয় ও দৌলতপুর এলাকায় সতর্কতা।
- পদ্মা: পানি বাড়ার সম্ভাবনা, হরিরামপুরের নদীতীর নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।
- কালীগঙ্গা: স্থানীয় বৃষ্টির প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।
- ধলেশ্বরী ও ইছামতী: পানির স্তর ধীরে বাড়তে পারে।
- বিশেষ সতর্কতা: নদীতীরবর্তী ও ভাঙনপ্রবণ এলাকায় অপ্রয়োজনে নদীর কিনারায় না যাওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।
মানিকগঞ্জের আবহাওয়া: ২৩ জুলাই সারাদিনই মেঘের আনাগোনা, দফায় দফায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
